ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য ডোমেইন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত একটি ডোমেইন দিয়ে ওয়েবসাইট চালানো হয়। তবে অনেক সময় একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ডোমেইনের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে Parked Domain বেশ কার্যকর।
এই লেখায় পার্কড ডোমেইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন। পাশাপাশি এর ব্যবহার, সুবিধা এবং cPanel থেকে ডোমেইন যুক্ত করার পদ্ধতিও জানতে পারবেন।
Parked Domain হলো একটি অতিরিক্ত ডোমেইন। এটি মূল ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ফলে একাধিক ডোমেইন ব্যবহার করে একই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হয়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনার মূল ডোমেইন cyberdeveloperbd.com। পাশাপাশি আপনি cyberdeveloperbd.net নামের আরেকটি ডোমেইন কিনেছেন। সঠিকভাবে সেটিংস সম্পন্ন করলে দ্বিতীয় ডোমেইন দিয়েও একই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যেতে পারে।
তবে শুধু ডোমেইন যুক্ত করলেই সব কাজ শেষ হয় না। ডিএনএস সেটিংস এবং হোস্টিং কনফিগারেশনও সঠিক হতে হবে।
পার্কড ডোমেইন ব্যবহারের বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো তুলে ধরা হলো।
প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে একাধিক ডোমেইন নিবন্ধন করা যায়। এর ফলে অন্য কেউ একই ধরনের নাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ কম পায়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনার মূল ডোমেইন cyberdeveloperbd.com। প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি cyberdeveloperbd.net-ও নিবন্ধন করতে পারেন। এরপর সেটি মূল ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।
অনেক ব্যবহারকারী একটি ওয়েবসাইটের একাধিক ডোমেইন মনে রাখতে পারেন। তাই বিকল্প ডোমেইন থাকলে তাঁদের জন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সহজ হতে পারে।
তবে সব ডোমেইন সঠিকভাবে কনফিগার করতে হবে। অন্যথায় ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইট খুলতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে একাধিক ডোমেইন থাকে। কিন্তু প্রতিটি ডোমেইনের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট তৈরির প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোমেইনটি মূল ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
ফলে আলাদা ওয়েবসাইট পরিচালনার ঝামেলা কমে। পাশাপাশি একই ব্র্যান্ডের অনলাইন উপস্থিতিও বজায় থাকে।
সহজে মনে রাখা যায় এমন ডোমেইন ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক। তাই মূল ডোমেইনের পাশাপাশি একটি বিকল্প ডোমেইন রাখা যেতে পারে।
তবে কোন পদ্ধতিতে ডোমেইনটি যুক্ত করবেন, তা হোস্টিংয়ের সুবিধার ওপর নির্ভর করে।।
Addon Domain: একই হোস্টিং অ্যাকাউন্টে আলাদা ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে একটি অ্যাকাউন্টে একাধিক ওয়েবসাইট চালানো সম্ভব হয়।
তবে বর্তমানে অনেক হোস্টিং সেবায় ডোমেইন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। তাই আপনার cPanel-এ কোন সুবিধাটি রয়েছে, তা যাচাই করে নিন।

cPanel-এর সংস্করণ অনুযায়ী ডোমেইন যুক্ত করার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
প্রথমে আপনার হোস্টিং অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। এরপর cPanel খুলুন।
cPanel-এর Domains বিভাগে প্রবেশ করুন। এখানে আপনার হোস্টিং অ্যাকাউন্টে যুক্ত ডোমেইনগুলো দেখতে পাবেন।
আপনার cPanel-এ একই ওয়েবসাইটের সঙ্গে অতিরিক্ত ডোমেইন যুক্ত করার সুবিধা থাকতে হবে। নতুন সংস্করণে পুরোনো Parked Domains অপশনটি সাধারণত Aliases নামে পরিচিত।
তাই আপনার প্যানেলে Aliases অপশন থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
নির্ধারিত ঘরে অতিরিক্ত ডোমেইনটি লিখুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার মূল ডোমেইন cyberdeveloperbd.com হলে cyberdeveloperbd.com.net যুক্ত করতে পারেন।
এরপর তথ্য যাচাই করে ডোমেইনটি যুক্ত করুন।
ডোমেইনটি কাজ করার জন্য সঠিক DNS সেটিংস থাকা জরুরি। তাই ডোমেইনের নেমসার্ভার বা প্রয়োজনীয় DNS রেকর্ড হোস্টিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
তবে পরিবর্তন কার্যকর হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
সব সেটিংস সম্পন্ন হলে ব্রাউজারে নতুন ডোমেইনটি খুলুন। সঠিকভাবে কনফিগার করা থাকলে মূল ওয়েবসাইটটি দেখা যাবে।
অন্যদিকে, ওয়েবসাইট না খুললে DNS, SSL এবং হোস্টিং সেটিংস পরীক্ষা করুন।
পার্কড ডোমেইন ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।
এছাড়াও, ডোমেইন যুক্ত করার আগে হোস্টিং প্রদানকারীর নির্দেশনা দেখে নিন।
শুধু পার্কড ডোমেইন যুক্ত করলেই সার্চ ইঞ্জিনে র্যাঙ্কিং বাড়ে না। বরং একই কনটেন্ট একাধিক ডোমেইনে থাকলে SEO-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই বিকল্প ডোমেইন থেকে মূল ওয়েবসাইটে পাঠানোর প্রয়োজন হলে উপযুক্ত পুনর্নির্দেশ ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ক্যানোনিক্যাল ঠিকানাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করুন।
এতে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে মূল পৃষ্ঠার ঠিকানা স্পষ্ট থাকে। ফলে কনটেন্টের পুনরাবৃত্তি নিয়ে সমস্যা কমানো যায়।
পার্কড ডোমেইনের প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
তবে সুবিধাগুলো নির্ভর করে ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের সঠিক কনফিগারেশনের ওপর।